SSC | বাংলা ১ম পত্র

SSC | বাংলা ১ম পত্র | উপেক্ষিত শক্তির উদ্বোধন | সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর ১-১০

উপেক্ষিত শক্তির উদ্বোধন

উপেক্ষিত শক্তির উদ্বোধন প্রবন্ধটি হতে SSC পরিক্ষায় কমন উপযোগী কিছু গুরুত্বপূর্ণ সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর গুলো নিয়ে আজকের বিশেষ আলোচনা পর্ব। অতএব সম্পূর্ণ পোস্টটি মনোযোগ সহকারে পড়তে থাকুন।

অনুশীলনীর সৃজনশীল প্রশ্নোত্তর

‘তোমার সেবিতে হইল যাহারা মজুর, মুটে ও কুলি, তোমারে বহিতে যারা পবিত্র অঙ্গে লাগাল ধূলি; তারাই মানুষ, তারাই দেবতা, গাহি তাহাদেরি গান,
তাদেরি ব্যথিত বক্ষে পা ফেলে আসে নব উত্থান!”

ক. ব্যক্তির সমষ্টিকে এককথায় কী বলা যায় ?
খ. আমাদের দেশে জনশক্তি গঠন হতে পারছে না কেন?
গ. উদ্দীপকের মজুর, মুটে, কুলি ‘উপেক্ষিত শক্তির উদ্বোধন’ প্রবন্ধের কাদের সমার্থক? ব্যাখ্যা করো ।
ঘ. উদ্দীপকের মূলভাব ‘উপেক্ষিত শক্তির উদ্বোধন’ প্রবন্ধের খণ্ডাংশ মাত্র- মন্তব্যটির যথার্থতা নিরূপণ করো।

০১ নম্বর সৃজনশীল প্রশ্নের উত্তর

ক. ব্যক্তির সমষ্টিকে এককথায় কী বলা যায় ?
উত্তরঃ ব্যক্তির সমষ্টিকে এককথায় জাতি বলা হয়।

খ. আমাদের দেশে জনশক্তি গঠন হতে পারছে না কেন ?

উত্তরঃ দেশের সত্যিকার মানুষদের মূল্যায়ন না করাই আমাদের দেশে জনশক্তি গঠিত হতে পারছে না। আমাদের অভিজাত সম্প্রদায় সব সময়ই তথাকথিত ছোটলোক সম্প্রদায়কে নীচু চোখে দেখে। তথাকথিত ভদ্র সম্প্রদায়ের এ ধরনের আচরণের ফলে এই ছোটলোক সম্প্রদায়ের মানুষেরা হীনমন্যতায় ভোগে ও দেশের কাজে প্রাণখুলে অংশ নিতে পারছে ন অথচ তারাই দেশের সত্যিকারের শক্তি। তাদের অবহেলা করছি বলেই আমাদের দেশের জনশক্তি গঠিত হতে পারছে না।

গ. উদ্দীপকের মজুর, মুটে, কুলি ‘উপেক্ষিত শক্তির উদ্বোধন’ প্রবন্ধের কাদের সমার্থক? ব্যাখ্যা করো ৷

উত্তরঃ উদ্দীপকের মজুর, মুটে, কুলি ‘উপেক্ষিত শক্তির উদ্বোধন’ প্রবন্ধের অবহেলিত মানুষের সমার্থক। কাজী নজরুল ইসলাম তাঁর ‘উপেক্ষিত শক্তির উদ্বোধন’ প্রবন্ধে সমাজের উপেক্ষিত মানুষদের গুরুত্ব তুলে ধরেছেন। যাদের অ্য কাঁচের মতো স্বচ্ছ, যাদের কর্মস্পৃহা দেশের উন্নয়নের জন্য জরুরি তাদের প্রশান্তি কামনা করেছেন তিনি। উদ্দীপকের কবিতাংশে সেই উপেক্ষিত শক্তিরই জয়গান গাওয়া হয়েছে।

উদ্দীপকে সমাজের তথাকথিত ভদ্রলোক সম্প্রদায় যাদের ছোটলোক বলে অবহেলা করে সেই ছোটলোকেরাই দেশের প্রকৃত মানুষ তাদের শ্রমের অবদানেরই যে উন্নত হয়েছে সভ্যতা সেই সত্যই প্রকাশিত হয়েছে। ‘উপেক্ষিত শক্তির উদ্বোধন’ প্রবন্ধেও উন্নয়নে অবহেলিত মানুষদের অবদান ও তাঁদের মূল্যায়নের প্রয়োজনীয়তা বর্ণিত হয়েছে। এদিক থেকে উদ্দীপকের কবিতাংশটির মজুর, মুটে ও কুলি উপেক্ষিত শক্তির উদ্বোধন প্রবন্ধের প্রবন্ধের উপেক্ষিত শক্তির সমার্থক বলা যায় ।

ঘ. উদ্দীপকের মূলভাব ‘উপেক্ষিত শক্তির উদ্বোধন’ প্রবন্ধের খণ্ডাংশ মাত্র-মন্তব্যটির যথার্থতা নিরূপণ করো ৷ উদ্দীপকের মূলভাব ‘উপেক্ষিত শক্তির উদ্বোধন’ প্রবন্ধের সমগ্র ভাবের প্রতিনিধিত্ব করে না।

উত্তরঃ উদ্দীপকের কবিতাংশটি দেশের আসল শক্তি শ্রমজীবী মানুষের জয়গান সংবলিত। প্রকাশিত ভাবটি ‘উপেক্ষিত শক্তির উদ্বোধন প্রবন্ধের একটি অংশকে প্রকাশ করলেও প্রবন্ধে বিস্তৃত ভাবের সম্পূর্ণ প্রকাশে সক্ষম হয় নি।

‘উপেক্ষিত শক্তির উদ্বোধন’ প্রবন্ধে কাজী নজরুল ইসলামের সাম্যবাদী মানসিকতা প্রকাশিত হয়েছে। সমাজের বিশাল কর্মযজ্ঞেও শ্রমজীবী মানুষদেরই অবদান যে সবচেয়ে বেশি তা তিনি ঘোষণা করেছেন দ্ব্যর্থহীন কণ্ঠে। এই শ্রমজীবী মানুষদের মাধ্যমে সকলে উপকৃত হলেও আভিজাত শ্রেণির ভদ্রলোক সম্প্রদায় তাদের উপযুক্ত সম্মান দেয়নি বরং ‘ছোটলোক’ বলে তাদের অপমান করেছে। মর্যাদাবান একটি রাষ্ট্র গঠনের প্রক্রিয়ায় ছোট-বড়, উঁচু-নীচু, ধর্মীয় ও জাতিগত বিভেদকে ভুলে গিয়ে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করতে হবে বলে প্রাবন্ধিক মত দিয়েছেন।

উদ্দীপকে প্রকাশিত শ্রমজীবী মানুষদের ত্যাগের মহিমা চিত্রণ, আলোচ্য প্রবন্ধে অনুরূপ। কিন্তু উপেক্ষিত শক্তিকে যথাযথ মূল্যায়নকরার যে প্রয়াস প্রবন্ধে প্রকাশিত হয়েছে তা উদ্দীপকে সম্পূর্ণরূপে উপস্থিত হয় নি। প্রবন্ধে উল্লিখিত উপেক্ষিত মানুষকেভালোবেসে বুকে টেনে নেয়ার প্রস্তাবটিও বর্ণিত হয় নি উদ্দীপকে। উদ্দীপকটি তাই ‘উপেক্ষিত শক্তির উদ্বোধন’ প্রবন্ধেরখণ্ডাংশ মাত্র।

অতিরিক্ত সৃজনশীল প্রশ্নোত্তর

প্রশ্ন ০২

আমার একার আলো সে যে অন্ধকার, যদিনা সবারে অংশ দিতে পারি তার। সকলের মাঝে বন্ধু সকলের সাথে, যাইব কাহারে বল ফেলিয়া পশ্চাতে। সকল সময় সে যে হয় মোর ভাই,
দেরি হোক তবু তারে সঙ্গে নিয়ে যাই।

ক. আমরা কাদের উপেক্ষা করছি? [বাকাশিবো-২০১৮)
খ. কারা দেশে যুগান্তর আনবে বলে কবি মনে করেন? [বাকাশিবো-২০১৮] গ. উদ্দীপকের কথাগুলো ‘উপেক্ষিত শক্তির উদ্বোধন’ প্রবন্ধের যে বক্তব্যের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ তা ব্যাখ্যা করো। [বাকাশিবো-২০১৮) ১.৫
ঘ. “উপেক্ষিত শক্তির উদ্বোধন’ প্রবন্ধের লেখকের মনের কথাই যেন উদ্দীপকের সারকথা”- বিশ্লেষণ করো। [বাকাশিবো-২০১৮) ২

০২ নম্বর সৃজনশীল প্রশ্নের উত্তর

ক. আমরা কাদের উপেক্ষা করছি?

উত্তরঃ যাদের ওপর আমাদের দশ আনা শক্তি নির্ভর করছে তাদের আমরা উপেক্ষা করছি।

খ. কারা দেশে যুগান্তর আনবে বলে কবি মনে করেন?

উত্তরঃ উপেক্ষিত শক্তিকে জাগিয়ে তুললে তারা দেশে যুগান্তর আনবে, অসাধ্য সাধন করবে বলে কবি মনে করেন । লেখক উপেক্ষিত শক্তিদের মহা আহবানে ডাকতে বলেছেন। যেমনি করে মহাত্মা গান্ধী ডেকেছেন। বুকভরা স্নেহ দিয়ে ডাকলে তারা সাড়া দেবেই। তাই উপেক্ষিত শক্তিতে বোধন করলে এরা দেশে যুগান্তর আনবে। অসাধ্য সাধন করবে।

গ. উদ্দীপকের কথাগুলো ‘উপেক্ষিত শক্তির উদ্বোধন’ প্রবন্ধের যে বক্তব্যের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ তা ব্যাখ্যা করো ।

উত্তরঃ দেশের উন্নয়নে সবাইকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে ‘উপেক্ষিত শক্তির উদ্বোধন’ প্রবন্ধের এ বক্তব্যের সাথে উদ্দীপকের কথাগুলো সামঞ্জস্যপূর্ণ। কোনো উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডই এক হাতে সম্পাদন করা সম্ভব নয়। তার জন্য প্রয়োজন সামষ্টিক উদ্যোগ। একক প্রচেষ্টায় হয়তো কিছুদূরে যাওয়া যায় কিন্তু গন্তব্যে পৌছানো যায় না। মানুষ সামাজিক জীব। তাই সমাজের সবাইকে সাথে নিয়েই দেশ উন্নয়নের অগ্রযাত্রায় শামিল হতে হয়।

উদ্দীপকে সকলকে সাথে নিয়ে সামনে এগিয়ে যাওয়ার কথা বলা হয়েছে। সকলে মিলে কাজ করলে সফলতা আসবে। আলোচ্য প্রবন্ধের বক্তব্য অনুযায়ী দেশের মানুষকে পেছনে ফেলে একা সাফল্যের শীর্ষে আরোহণ করলে সে সাফল্যের সুফল বেশিদিন ভোগ করা যায় না। তাছাড়া সমাজের সবাই একে অপরের সাথে কোনো না কোনো আত্মার বন্ধনে আবদ্ধ। সেখানে কাউকে পেছনে ফেলে একা সুখ ভোগ করা যায় না।

তাই সমাজের মধ্যে বিভাজন সৃষ্টি করে বেশিরভাগ লোকদের অবজ্ঞা অবহেলা করে উন্নতির আশা করলে তা হবে আকাশ কুসুম কল্পনা মাত্র। এগুতে হবে শ্রমিক, মজুর, কামার, তাঁতি, সবাইকে নিয়ে। মহাত্মা গান্ধীর জীবনাচরণেও সেই দিকটিই ফুটে উঠেছে।

ঘ. “উপেক্ষিত শক্তির উদ্বোধন’ প্রবন্ধের লেখকের মনের কথাই যেন উদ্দীপকের সারকথা— বিশ্লেষণ করো।

উত্তরঃ ‘উপেক্ষিত শক্তির উদ্বোধন’ প্রবন্ধে সমষ্টিকে নিয়ে এগুনোর যে দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত হয়েছে, উদ্দীপকের মূলভাবও তাই। লেখক সমাজবিজ্ঞানীর মতো আমাদের সমাজকে পর্যবেক্ষণ করে মর্মাহত হয়েছেন। তিনি লক্ষ করেছেন, আমাদের সমাজের মধ্যে সুস্পষ্ট বিভাজন রেখা টেনে জাতিকে বিভক্ত করা হয়েছে। এক শ্রেণির লোক ভদ্র, আরেক শ্রেণি ছোটলোক অভিধায় অভিহিত। আবার ভদ্র সমাজ কর্তৃক ছোটলোক সমাজ নানাভাবে নিগৃহীত হচ্ছে প্রতিনিয়ত। এর ফলে আমাদের উন্নয়ন কার্যক্রম বাধাগ্রস্ত হচ্ছে মারাত্মকভাবে।

উত্তরঃ উদ্দীপকে বলা হয়েছে, সমাজের প্রতিটি মানুষ একে অপরের পরমাত্মীয়। এখানে সবাইকে নিয়েই সুখের সন্ধান করতে হবে। একইভাবে প্রবন্ধের বর্ণনামতে, দেশ ও জাতিকে উন্নত করতে হলে এ বিভাজনরেখাকে দৃঢ়ভাবে মুছে ফেলতে হবে। কারণ ভদ্র সমাজকে স্বীকার করতে হবে তারা কেবল পরিকল্পনা প্রণয়ন করতে পারেন কিন্তু তা বাস্তবায়ন তাদের কাজ নয়। বাস্তবায়নের জন্য প্রয়োজন তথাকথিত ছোটলোক সম্প্রদায়।

যাদেরকে আমরা সমাজ উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ড থেকে দূরে রাখি। তাছাড়া যেহেতু কথায় কেবল কাজ হবে না তাই সবাইকে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজে নামতে হবে।

একার সুখ প্রকৃত সুখ বলে কখনো বিবেচিত হতে পারে না। সম্মিলিত আয়োজনেই সুখ ধরা দিতে পারে। তাই সমাজের সকল বিভেদের রেখাজাল মুছে দিয়ে আত্মীয়তার দৃঢ় বন্ধনে আবদ্ধ হয়ে সম্মিলিতভাবে উন্নয়ন কাজে অংশগ্রহণ করতে হবে। তাহলেই আসবে কাঙ্ক্ষিত সফলতা। কাজেই ঘৃণা নয়, অবহেলা নয়, সম্মিলিত উদ্যোগই আমাদের মুক্তির একমাত্র উপায়। তাই দেখা যায় লেখকের আকাঙ্ক্ষাই উদ্দীপকের সারকথা।

প্রশ্ন ০৩

১৯১৭ সালে কাজী নজরুল ইসলাম সেনাবাহিনীর বাঙালি পল্টনে যোগ দিয়ে করাচি যান। সেখানেই তাঁর সাহিত্য জীবনের সূচনা ঘটে। তিনি সামাজিক অন্যায়-অবিচার এর বিরুদ্ধে লেখার পাশাপাশি পরাধীন ভারতবর্ষের স্বাধীনতার কথা চিন্তা করেও লিখেছেন অনেক লেখা। তিনি বিশ্বাস করতেন কেবল শিক্ষিত ও ধনী ব্যক্তির মাধ্যমে নয়, অবহেলিত দরিদ্র শ্রেণির মানুষকে সচেতন
করে তোলার মাধ্যমে আসবে ভারতের স্বাধীনতা।

ক. কাজী নজরুল ইসলামের জন্ম সাল কত? [বাকাশিবো- ২০১৫, ২০১৭] খ. ‘বোধন-বাঁশি’ বলতে কী বোঝায়? [বাকাশিবো – ২০১৫, ২০১৭] গ. উদ্দীপকের কোন অংশের সঙ্গে তোমার পঠিত গদ্যের সাদৃশ্য রয়েছে- তুলে ধরো। [বাকাশিবো-২০১৫, ২০১৭] ঘ. “তার লেখায় তিনি সামাজিক অবিচার ও পরাধীনতার বিরুদ্ধে সোচ্চার হয়েছেন”— “উপেক্ষিত শক্তির উদ্বোধন” প্রবন্ধের
আলোকে মূল্যায়ন করো। [বাকাশিবো – ২০১৫, ২০১৭)

০৩ নম্বর সৃজনশীল প্রশ্নের উত্তর

ক. কাজী নজরুল ইসলামের জন্ম সাল কত ?
উত্তরঃ কাজী নজরুল ইসলামের জন্ম সাল ১৮৯৯ ।

খ. ‘বোধন-বাঁশি’ বলতে কী বোঝায়?
উত্তরঃ ‘বোধন-বাঁশি’ বলতে বোধ জাগিয়ে তোলার বাঁশিকে বোঝানো হয়েছে
আমাদের সমাজে মানুষে মানুষে প্রচুর বৈষম্য রয়েছে। এ শ্রেণিবৈষম্যের কারণে আমরা অধঃপতিত। আমাদের কোনো উন্নতি নেই। কিন্তু উপেক্ষিত শক্তির জাগরণ ছাড়া কোনোভাবেই উন্নতি সম্ভব নয়। এ বোধ আমাদের ভদ্র সম্প্রদায়ের নেই। তাই তাদের মধ্যে বোধ জাগিয়ে তোলার জন্য লেখক বোধন বাঁশিতে সুর দেয়ার আহবান জানিয়েছেন।

গ. উদ্দীপকের কোন অংশের সঙ্গে তোমার পঠিত গদ্যের সাদৃশ্য রয়েছে— তুলে ধরো।

উত্তরঃ উদ্দীপকের অবহেলিত দরিদ্র শ্রেণির মানুষের সচেতনতায় স্বাধীনতালাভের বিষয়টির সঙ্গে আমার পঠিত গদ্যের উপেক্ষিত জনগোষ্ঠীর জাগরণের সাদৃশ্য রয়েছে ।

পৃথিবীতে সবাই সমান। মানুষে মানুষে যে পার্থক্য তৈরি করা হয় তা স্বার্থবাদী মানুষের সুবিধার্থে। তাই সব কিছু ভুলে নিজেকে মানুষ হিসেবে গণ্য করতে হবে। ধর্মীয় গোঁড়ামি কিংবা শ্রেণি সাম্প্রদায়িকতার বিষবাষ্প দ্বারা আক্রান্ত হয়ে কোনো মানুষকে খাটো করার কোনো যৌক্তিকতা নেই।

উদ্দীপকে ভারতবর্ষের স্বাধীনতা অর্জনে অবহেলিত দরিদ্রশ্রেণির মানুষকে সচেতন করার কথা বলা হয়েছে। সেখানে বলা হয়েছে পরাধীন ভারতবর্ষকে স্বাধীনতা লাভ করতে হলে কেবল শিক্ষিত ও ধনী ব্যক্তির দ্বারা কখনো সম্ভব নয়। পাশাপাশি সমাজের দরিদ্রশ্রেণিকেও সচেতন করে তুলতে হবে।

‘উপেক্ষিত শক্তির উদ্বোধন’ প্রবন্ধেও লেখক জাতির মহাজাগরণের দিনে মানুষে মানুষে মানুষকে মর্যাদা দিতে হবে। তবেই সার্বিক উন্নয়ন সম্ভব । ভেদাভেদ করতে চান না। তিনি বলেছেন, বিশ্বের বুকে মর্যাদাবান রাষ্ট্র গঠন করার জন্য ক্ষুদ্র স্বার্থকে পরিত্যাগ করে সকল
মূল্যায়ন করো।

ঘ. “তার লেখায় তিনি সামাজিক অবিচার ও পরাধীনতার বিরুদ্ধে সোচ্চার হয়েছেন”- ‘উপেক্ষিত শক্তির উদ্বোধন’ প্রবন্ধের আলোকে

উত্তরঃ আলোকে যৌক্তিক তাঁর লেখায় তিনি সামাজিক অবিচার পরাধীনতার বিরুদ্ধে সোচ্চার হয়েছেন- উক্তিটি ‘উপেক্ষিত শক্তির উদ্বোধন’ প্রবন্ধেরপ্রায় দু’শ বছর ইংরেজরা ভারতবর্ষকে শাসন ও শোষণ করেছেন। এ শাসন ও শোষণের বিরুদ্ধে যে সকল সাহিত্যিক কলম ধরেছিলেন তাঁদের মধ্যে বিদ্রোহী কবি কাজী নজরুল ইসলাম অগ্রপথিক। তিনি তাঁর লেখনির মাধ্যমে বৃটিশদের বিষদাঁত উপড়ে দিয়েছিলেন। উদ্দীপকে কাজী নজরুল ইসলামের সাহিত্য রচনায় সামাজিক অনাচার ও পরাধীনতায় সোচ্চার হয়ে উঠার কথা ব্যক্ত করা হয়েছে।

তিনি সমাজের সকল অবিচার ও অনাচারের বিরুদ্ধে লেখনী ধারণ করেছিলেন। পাশাপাশি পরাধীন ভারতবর্ষকে স্বাধীন করার জন্য সমগ্র বাঙালিকে সচেতন করে তুলেছিলেন। ‘উপেক্ষিত শক্তির উদ্বোধন’ প্রবন্ধেও তিনি বলেছেন, সত্যিকার মর্যাদাবান রাষ্ট্রে পরিণত করার জন্য আমাদের সমাজের তথাকথিত ছোট লোকদের জাগিয়ে তুলতে হবে। ভদ্র সম্প্রদায় কর্তৃক শ্রমিক শ্রেণির উপর অমানবিক আচার আচরণ বন্ধ করতে হবে।

তাদেরকে যথার্থ মানুষ হিসেবে ভাবতে হবে। তাদেরকে জুলুম, শোষণ ও নির্যাতন না। তাদের মধ্যে বোধন বাঁশির সুর জাগিয়ে তুলতে হবে। করা যাবে না। আর স্বাধীনতা আনতে হলে দেশের ষোলো আনা শক্তি যাদের উপর নির্ভর করছে তাদের অবহেলা করলে চলবে উদ্দীপক ও ‘উপেক্ষিত শক্তির উদ্বোধন’ প্রবন্ধের তুলনামূলক আলোচনা করে বলা যায় যে, কাজী নজরুল ইসলাম আজীবন বিদ্রোহ ও ভাঙার গান গেয়েছেন।

একদিকে তিনি সকল পুরাতন, জরাজীর্ণতা ভেঙ্গে ফেলেছেন অন্যদিকে নতুন সৃষ্টি সুখের উল্লাসে মেতেছেন। তিনি কখনো অন্যায় অনাচার মেনে নেন নি। যেখানেই সামাজিক অবিচার দেখেছেন সেখানেই তিনি সোচ্চার হয়েছেন। তাই প্রশ্নোক্ত উক্তিটি যৌক্তিক বলেই প্রমাণিত হয়েছে।

প্রশ্ন ০৪

ওসমান/আনান বললো, ‘গ্রামের সার্বিক উন্নতির জন্য কী কী করতে হবে তা নিয়ে আলোচনা সভায় শুধু শিক্ষিত লোকেই উপস্থিত থাকবে। বাধা দিয়ে মানিক/সফিক বললো, ‘না সকলেই উপস্থিত থাকতে পারবে, সবাইকে সুযোগ না দিলে সার্বিক মঙ্গল সম্ভব
হয় না’ ।

ক. ‘উপেক্ষিত শক্তির উদ্বোধন’ প্রবন্ধটি কোথা থেকে নেয়া হয়েছে?
খ. ‘আত্মার অধর্ম’ বলতে কী বোঝানো হয়েছে?
গ. উদ্দীপকের বক্তব্যের সাথে পঠিত প্রবন্ধের অংশবিশেষ সাদৃশ্য রয়েছে।- ব্যাখ্যা করো ।
ঘ. উদ্দীপকের মানিকের/সফিকের বক্তব্যটিকে প্রবন্ধের আলোকে ব্যাখ্যা করো।

০৪ নম্বর সৃজনশীল প্রশ্নের উত্তর

ক. ‘উপেক্ষিত শক্তির উদ্বোধন’ প্রবন্ধটি কোথা থেকে নেয়া হয়েছে?
উত্তরঃ ‘উপেক্ষিত শক্তির উদ্বোধন’ প্রবন্ধটি ‘নজরুল রচনাসম্ভার’ নামক গ্রন্থের তৃতীয় খণ্ড থেকে নেয়া হয়েছে।

খ.‘আত্মার অধর্ম’ বলতে কী বোঝানো হয়েছে?

উত্তরঃ আত্মার অধর্ম বলতে বিভিন্ন জাতি ও সম্প্রদায়ের মধ্যকার হিংসা, বিদ্বেষমূলক কাজ করাকে বোঝানো হয়েছে আমাদের সমাজে মূলত দু’শ্রেণির লোকের বসবাস। এক শ্রেণি হলো তথাকথিত ভদ্রসমাজ, যারা ছোটলোকদের সব সময় হিংসা বিদ্বেষ করে থাকে। আরেক শ্রেণির লোক হলো ছোটলোক, যা ভদ্রসমাজের কাছ থেকে শোষিত হয়। লেখক ভদ্রসমাজের নীতি বহির্ভূত এ ধরনের গর্হিত কাজকে আত্মার অধর্ম বলেছেন।

গ. উদ্দীপকের বক্তব্যের সাথে পঠিত প্রবন্ধের অংশবিশেষ সাদৃশ্য রয়েছে।— ব্যাখ্যা করো। উদ্দীপকের বক্তব্যের সাথে আমার পঠিত প্রবন্ধের অংশবিশেষের সাদৃশ্য রয়েছে।

উত্তরঃ পৃথিবীতে সবাই সমান। মানুষে মানুষে যে পার্থক্য তৈরি করা হয় তা কেবল স্বার্থবাদী মানুষের সুবিধার্থে। তাই সবকিছু ভুলে নিজেকে মানুষ হিসেবে গণ্য করতে হবে।

উদ্দীপকে ওসমান যে বক্তব্য দিয়েছেন তা কোনো গ্রামের সার্বিক উন্নয়নের কথা নয়। ওসমান শুধু গ্রামের উন্নয়নের জন্য সমাজের ভদ্র-শিক্ষিত লোকদের সভায় কামনা করেছেন। কিন্তু একটি সমাজের উন্নয়নের জন্য সমাজের উঁচু, নিচু, ভদ্র, ছোটলোক সবারই অংশগ্রহণ প্রয়োজন। আমার পঠিত প্রবন্ধেও এ বিষয়ের সাদৃশ্য রয়েছে।

আলোচ্য প্রবন্ধেও লেখক জাতির মহাজাগরণে মানুষে মানুষে ভেদাভেদ করতে চান না। মানুষের মধ্যে পার্থক্য তৈরি করলে যে কখনো উন্নয়ন সম্ভব নয় এ সম্পর্কে তিনি সতর্ক করে দিয়েছেন। তাই উদ্দীপকের যে বক্তব্য সমাজের সব শ্রেণির মানুষ ব্যতিরেকে জাতীয় উন্নয়ন সম্ভব নয়, আলোচ্য প্রবন্ধেও এই একই বিষয় অন্তর্ভুক্ত হয়েছে।

ঘ. উদ্দীপকের মানিকের/সফিকের বক্তব্যটিকে প্রবন্ধের আলোকে ব্যাখ্যা করো ।

উত্তরঃ উদ্দীপকের মানিকের/সফিকের বক্তব্যে জাতির উন্নয়নে কোনো ভেদাভেদ করা উচিত নয়- এ বিষয়টি পরিষ্কারভাবে ফুটে উঠেছে দেশের উন্নয়নে ছোট-বড়, উঁচু-নিচু, ধর্মীয় ও জাতিগত বিভেদ দূর করা আবশ্যক। পৃথিবীতে তাদের অবদানকে মূল্যায়ন করতে হবে। তাহলেই রাষ্ট্রে সুখ ও সমৃদ্ধি বিরাজ করবে।

উদ্দীপকের মানিকের/সফিকের বক্তব্যে দেশের সার্বিক মঙ্গলের জন্য সমাজের সর্বশ্রেণির মানুষের অংশগ্রহণের কথা বলা হয়েছে। মানিক/সফিক বলেছেন, সার্বিক মঙ্গলের জন্য সমাজের নিচু অশিক্ষিত লোকদের বাদ দিয়ে শুধুমাত্র ভদ্র শিক্ষিত লোকদের নিয়েই সমাজ উন্নয়ন আদৌ সম্ভব নয়।

তাই তিনি সব শ্রেণির মানুষের অংশগ্রহণের মাধ্যমে জাতির উন্নয়নের প্রত্যাশা করেছেন। ‘উপেক্ষিত শক্তির উদ্বোধন’ প্রবন্ধেও প্রাবন্ধিক এ কথাই বোঝাতে চেয়েছেন যে, কোনো অংশকে বাদ দিয়ে কখনোই কোনো কাজে সফল হওয়া যাবে না। তাই সার্বিক মঙ্গল সাধনে উপেক্ষিত জাতি অর্থাৎ ছোটলোকদের যে উপেক্ষা করা হচ্ছে তা আদৌ ঠিক নয়। কেননা এদেরকে বাদ দিয়ে কখনো জাতীয় অগ্রগতি সম্ভব নয়।

উদ্দীপকে সার্বিক মঙ্গল তথা জাতীয় উন্নয়নে সবার অংশগ্রহণের বিষয়টি যেমন মানিকের/সফিকের বক্তব্যে ফুটে উঠেছে, ঠিক তেমনি আলোচ্য প্রবন্ধেও নজরুল ইসলাম দেশের মহাজাগরণে জাতি-ধর্ম নির্বিশেষে সমাজের সর্বশ্রেণির মানুষের সকল ভেদাভেদ ভুলে ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করার উদাত্ত আহ্বান জানিয়েছেন। তাই এসব দিক বিবেচনায় বলা যায়, উদ্দীপকের মানিকের/সফিকের বক্তব্য সর্বাংশে সত্য বলে পরিগণিত হয়েছে।

প্রশ্ন ০৫

গাহি সাম্যের গান-
মানুষের চেয়ে বড় কিছু নাই, নহে কিছু মহীয়ান ।
নাই দেশ-কাল-পাত্রের ভেদ, অভেদ ধর্মজাতি
সব দেশে, সব কালে, ঘরে ঘরে তিনি মানুষের জ্ঞাতি।

ক. ‘বোধন-বাঁশি’ অর্থ কী?
খ. ‘ছোট লোকের অন্তর কাচের ন্যায় স্বচ্ছ।’-ব্যাখ্যা করো।
গ. উদ্দীপকে ‘উপেক্ষিত শক্তির উদ্বোধন’ প্রবন্ধের কোন দিকটি ফুটে উঠেছে? – তুলে ধরো।
ঘ. “উদ্দীপকের মূলভাবই যেন ‘উপেক্ষিত শক্তির উদ্বোধন’ প্রবন্ধে প্রকাশিত হয়েছে”–আলোচনা করো।

০৫ নম্বর সৃজনশীল প্রশ্নের উত্তর,

ক. ‘বোধন-বাঁশি’ অর্থ কী?

উত্তরঃ বোধন-বাঁশি অর্থ বোধ জাগিয়ে তোলার বাঁশি

খ. ‘ছোটলোকের অন্তর কাচের ন্যায় স্বচ্ছ—ব্যাখ্যা করো।

উত্তরঃ ‘ছোটলোকের অন্তর কাচের ন্যায় স্বচ্ছ’—উক্তিটি দ্বারা কাজী নজরুল ইসলাম কথিত ছোটলোকদের উদার দৃষ্টিভঙ্গির কথা বুঝিয়েছেন। সমগ্ৰ বিশ্ব আজ দু’শ্রেণিতে বিভক্ত। শোষক ও শোষিত। কাজী নজরুল ইসলাম সারা জীবন এই শোষিত শ্রেণির জাগরণ প্রত্যাশা করেছেন। আলোচ্য প্রবন্ধে কথিত ছোটলোক সম্প্রদায়ের সরল স্বচ্ছ মনের বর্ণনা দিতে গিয়ে তিনি তাদের মনকে কাচের ন্যায় স্বচ্ছ অন্তর বলেছেন।

গ. উদ্দীপকে ‘উপেক্ষিত শক্তির উদ্বোধন’ প্রবন্ধের কোন দিকটি ফুটে উঠেছে? তুলে ধরো।

উত্তরঃ উদ্দীপকে ‘উপেক্ষিত শক্তির উদ্বোধন’ প্রবন্ধের সাম্যবাদী দৃষ্টিভঙ্গি এবং জগতের সব মানুষ এক ও অভিন্ন— এ সত্যটি ফুটে উঠেছে। আমাদের এই পৃথিবী জাতি-ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সব মানুষের বাসভূমি। এ ধরণীর স্নেহছায়ায় এবং একই সূর্য ও চন্দ্রের আলোতে সকলেই আলোকিত। মানুষের মানবীয় অনুভূতি যথা শীতলতা, উষ্ণতা, ক্ষুধা, তৃষ্ণা প্রভৃতি সবারই এক ও অভিন্ন। এ বৈষম্য, এ পার্থক্য কৃত্রিম। সবার এক ও অভিন্ন পরিচয়- আমরা সবাই মানুষ।

উদ্দীপকে সারা পৃথিবীতে জাতি-বর্ণ-গোত্র পরিচয়ের ঊর্ধ্বে যে মানবসমাজ— তার জয়গান ফুটে উঠেছে। মানুষ হিসেবেই মানুষের প্রথম এবং প্রধান পরিচয় হওয়া উচিত-সাম্যের এই বাণী গুরুত্ব পেয়েছে। ‘উপেক্ষিত শক্তির উদ্বোধন’ প্রবন্ধেও লেখক এটাই প্রত্যাশা করেছেন। লেখক আলোচ্য প্রবন্ধে মানবজাতি এবং তাদের ঐক্যবদ্ধ শক্তির জয়গান করেছেন। ভদ্রসমাজ যদি তাদের তথাকথিত ছোটলোক বলে অবহেলা না করে মানুষ হিসেবে মূল্য ও মর্যাদা দেয় এবং তাদের জেগে ওঠার সুযোগ দেয় তাহলে তারা জগতে অনেক অসাধ্য সাধন করতে পারবে। উদ্দীপকে আলোচ্য প্রবন্ধের এই ধারণাগুলোই ব্যক্ত হয়েছে।

ঘ. “উদ্দীপকের মূলভাবই যেন ‘উপেক্ষিত শক্তির উদ্বোধন’ প্রবন্ধে প্রকাশিত হয়েছে” – আলোচনা করো।

উত্তরঃ জগতের সব মানুষের এক ও অভিন্ন পরিচয়- আমরা সবাই মানুষ। এই চেতনা উদ্দীপক এবং ‘উপেক্ষিত শক্তির উদ্বোধন’ প্রবন্ধের মূলভাব, আর তা একসূত্রে গাঁথা।

পৃথিবীর নানা দেশে রয়েছে নানা জাতি। বিচিত্র তাদের জীবনধারা ও সংস্কৃতি। কিন্তু পৃথিবীর যে কোনো দেশের মানুষ একই চন্দ্র সূর্যের আলোয় আলোকিত, একই লাল রক্ত তাদের শরীরে প্রবাহিত হয়। ধনী-দরিদ্র, ছোট-বড়, উঁচু-নীচু, ধর্ম, বর্ণ প্রভৃতি দ্বারা
মানুষের পার্থক্য করা উচিত নয়।পরিচয় উদ্দীপকে মানুষে মানুষে সাম্য ও মৈত্রী বন্ধনের দিকটি প্রকাশ পেয়েছে। পৃথিবীতে মানুষের ধর্ম-বর্ণ জাতিভেদ ছাপিয়ে বড় সে মানুষ। তাই বিশ্বের এক মানুষ অন্য মানুষের আত্মীয় ও বন্ধু। ‘উপেক্ষিত শক্তির উদ্বোধন’ প্রবন্ধেও কাজী নজরুল ইসলাম।

সাম্যবাদী মানসিকতার দিকটি ব্যাখ্যা করেছেন। ভদ্রলোকেরা যাদের ছোটলোক মনে করে তাদের অবহেলা ও উপেক্ষার শিকার হতে দেখে তিনি দুঃখ প্রকাশ করেছেন। কারণ তারাও মানুষ। সমাজে তাদেরও অধিকার রয়েছে। প্রাবন্ধিক তাদের মর্মবেদনাবোঝার মত মানসিকতা অর্জনের জন্যও তথাকথিত ভদ্র লোকদের পরামর্শ দিয়েছেন।

‘উপেক্ষিত শক্তির উদ্বোধন’ প্রবন্ধে প্রাবন্ধিক মহাত্মা গান্ধীর প্রসঙ্গ তুলে ধরেছেন। তিনি বলেছেন, মহাত্মা গান্ধী যেমন করে নিম্ন শ্রেণি, গোষ্ঠী, জাতি ও ধর্মের মানুষদের ভাই বলে বুকে টেনে নিয়েছেন, তেমনি করে এ ছোটলোক সেনর ভালোবাসলে তাদের পার কঠিন কাজও করা সম্ভব । এই উপেক্ষিত শক্তির উদ্বোধন হলে সাম্যবাদের বাণী ছড়িয়ে যাবে পুরো বিশ্বে। তখন পৃথিবীর মানুষ একই মর্যাদায় অভিষিক্ত হবে। উদ্দীপকের পঙ্ক্তিতেও এ ভাবটিই ফুটে উঠেছে। তাই উদ্দীপকের মূল ভাব এবং ‘উপেক্ষিত শক্তির উদ্বোধন’ প্রবন্ধের মূলভাব একই সূত্রে গাঁথা।

প্রশ্ন ৬

মওলানা ভাসানী বাংলাদেশে সমাজ বিপ্লবের অগ্রসেনানী। এদেশে প্রচলিত সামন্তবাদ ও দুর্বৃত্ত পুঁজির বিরুদ্ধে জনতার কাতারে। তাই তাকে বলা হয় মজলুম জননেতা । করেছিলেন। তিনি সঙ্গে নিয়েছিলেন দেশের কৃষক-শ্রমিক-জনতাকে। মওলানা ভাসানী একাকার হয়ে গিয়েছিলেন মেহনত

ক. বাংলা সাহিত্যে কাজী নজরুল ইসলামের উপাধি কোনটি?
খ. ‘দেখিবে ইহারাই দেশে যুগান্তর আনিবে, অসাধ্য সাধন করিবে। ‘কারা এবং কীভাবে?
গ. উদ্দীপকের মওলানা ভাসানী চরিত্রটি ‘উপেক্ষিত শক্তির উদ্বোধন’ প্রবন্ধের কোন চরিত্রকে প্রতিকলিত করে? আলোচনা করা। ১৫
ঘ. “মওলানা ভাসানী এবং মহাত্মা গান্ধীর চেতনা একই সূত্রে গাঁথা।”—উদ্দীপক ও ‘উপেক্ষিত শক্তির উৎপাদন প্রবাে আলোকে মন্তব্যটি বিশ্লেষণ করো।

০৬ নম্বর সৃজনশীল প্রশ্নের উত্তর

ক. বাংলা সাহিত্যে কাজী নজরুল ইসলামের উপাধি কোনটি?

উত্তরঃ বাংলা সাহিত্যে কাজী নজরুল ইসলামের উপাধি ‘বিদ্রোহী কবি’ ।

খ. ‘দেখিবে ইহারাই দেশে যুগান্তর আনিবে, অসাধ্য সাধন করিবে।’-কারা এবং কিভাবে?

উত্তরঃ উপেক্ষিত শক্তিকে জাগিয়ে তুললে তারা দেশে যুগান্তর আনবে, অসাধ্য সাধন করবে। আমাদের দেশের প্রায় সব মানুষই উপেক্ষিত। অল্পসংখ্যক মানুষ দিয়ে তথাকথিত ভদ্রশ্রেণির সৃষ্টি হয়েছে। তারা দেশের বর্ণিবার মানব কল্যাণের কথা বলে রোজ বক্তৃতা দেন।

কিন্তু মানুষের কোনো কল্যাণই তাদের একার দ্বারা সম্ভব হয় নি, হবেও না। তারা যদি উপেক্ষিত শক্তিকে জাগিয়ে তুলতে পারে তবে এ ছোট লোকেরাই দেশে যুগান্তর আনবে, অসাধ্য সাধন করবে।

গ. উদ্দীপকের মওলানা ভাসানী চরিত্রটি ‘উপেক্ষিত শক্তির উদ্বোধন’ প্রবন্ধের কোন চরিত্রকে প্রতিফলিত করে? আলোচনা করুন। উদ্দীপকের মওলানা ভাসানী চরিত্রটি ‘উপেক্ষিত শক্তির উদ্বোধন’ প্রবন্ধের মহাত্মা গান্ধীর চরিত্রকে প্রতিফলিত করে।

উত্তরঃ সৃষ্টির ঊষালগ্ন থেকেই পৃথিবীতে শ্রেণিবৈষম্যের কারণে নিম্নশ্রেণির লোকেরা ধনবান সবল শ্রেণির কাছে অবহেলিত, উপেক্ষিত ও নিন্দিত। তবে এ পৃথিবীতে কোনো কোনো সময় এমন কিছু মহামানবের আবির্ভাব ঘটেছে, যারা সকল শ্রেণিবৈষম্যের ঘরে তালা লাগিয়ে সাম্যের জয়গান গেয়েছেন।

মওলানা ভাসানী ও মহাত্মা গান্ধী তাদের মধ্যে অন্যতম । উদ্দীপকের মওলানা ভাসানী এদেশের তথাকথিত ভদ্র সম্প্রদায়ের শ্রেণিবৈষম্যের নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করে কৃষক শ্রমিক জনতাকে সঙ্গে নিয়ে সামন্তবাদ ও দুর্বৃত্ত পুঁজিবাদের বিরুদ্ধে আন্দোলন করেছিলেন।

তিনি ছিলেন বাংলাদেশে সমাজ বিপ্লবের অগ্রসৈনিক। তাঁর মতো আলোচ্য প্রবন্ধেও মহাত্মা গান্ধীর এমন কর্মকাণ্ডের নানা পরিচয় পাওয়া যায়। তিনি সমাজের অবহেলিত, উপেক্ষিত, নিরীহ জনগোষ্ঠীকে দূরে ঠেলে না দিয়ে বুকে জড়িয়ে নিয়েছেন এবং তাদের সুখ-দুঃখকে আপন করে নিয়ে সবসময় পাশে থেকেছেন। তাই এসব দিক বিবেচনায় বলা যায়, মানবতা ও সাম্যের দিক দিয়ে উভয় চরিত্রই সামঞ্জস্যপূর্ণ।

ঘ. “মওলানা ভাসানী এবং মহাত্মা গান্ধীর চেতনা একই সূত্রে গাঁথা।”—উদ্দীপক ও ‘উপেক্ষিত শক্তির উদ্বোধন’ প্রবন্ধের আলোকে মন্তব্যটি বিশ্লেষণ করো।

উত্তরঃ মওলানা ভাসানী এবং মহাত্মা গান্ধীর চেতনা একই সূত্রে গাঁথা-মন্তব্যটি যথার্থ। ধনবান অভিজাত তথাকথিত ভদ্র সম্প্রদায়ের কাছে দরিদ্র, নিরীহ, নিম্নশ্রেণির লোকেরা চিরকালই অবহেলিত, লাঞ্ছিত, নিপীড়িত ও অত্যাচারিত। এসব মানুষেরা এতসব অত্যাচার, অবহেলা ও ঘৃণা পেয়ে মানুষ হিসেবে বেঁচে থাকার অধিকার ভুলে গেলেও যুগে যুগে তাদের ভুল ভাঙাতে ও তাদের অধিকার আদায়ের জন্য আন্দোলন করতে অনেক মহামানব এসেছেন এবং ভবিষ্যতেও আসবেন।

‘উপেক্ষিত শক্তির উদ্বোধন’ প্রবন্ধে গান্ধীজি সমগ্র ভারতবাসীর সুখ-দুঃখের ভাগীদার হয়ে তাদের পাশে এসে দাঁড়িয়েছেন এবং তারা খেতে পায়নি বলে নিজেও উপোষ থেকেছেন। তার ইচ্ছে ছিল সবাইকে নিয়ে খাওয়া, শুধু নিজে একা একা খেয়ে নেয়া নয়। যেমনটা উদ্দীপকের মওলানা ভাসানীর মধ্যেও ছিল। কেননা তিনি দরিদ্র, অনাহারী, উপেক্ষিত, লাঞ্ছিত, অপমানিত, নিন্দিত, অবহেলিত নিম্নশ্রেণির লোকদের পাশে এসে দাঁড়িয়েছিলেন এবং তাদের অধিকার আদায়ের লক্ষ্যে ধনিকশ্রেণির বিরুদ্ধে আন্দোলন করেছিলেন।

উদ্দীপক ও ‘উপেক্ষিত শক্তির উদ্বোধন’ প্রবন্ধের তুলনামূলক বিশ্লেষণে বলা যায় যে, সবলের অত্যাচারের হাত থেকে দুর্বলকে বাঁচানোর জন্য ও তাঁদের অধিকার আদায়ের জন্যই যুগে যুগে মহামানবদের আবির্ভাব ঘটেছে। এসব মহামানবের মধ্যে গান্ধীজি ও ভাসানী অন্যতম। তাঁরা ছিলেন সমাজ বিপ্লবের অগ্রসেনানী। তাই বলা যথার্থ যে, উদ্দীপকের বিপ্লবী নেতা ভাসানী এবং আলোচ্য প্রবন্ধের মহান নেতার চেতনা একই সূত্রে গাঁথা।

প্রশ্ন ০৭

নমি আমি প্রতিজনে, আদ্বিজ চন্ডাল
প্রভু, ক্রিতদাস।
সিন্ধুমূলে জলবিন্দু, বিশ্বমূলে অণু;
সমগ্রে প্রকাশ ।
নমি কৃষি-তন্তুজীবী স্থপতি তক্ষক
কর্ম চর্মকার।
অদ্রিতলে শিলাখণ্ড— দৃষ্টি অগোচরে,
বহ অদ্রি ভার।

ক. ‘উপেক্ষিত শক্তির উদ্বোধন’ প্রবন্ধে উপেক্ষিত জনতাকে কী বিশেষণে বিশেষিত করা হয়েছে?
খ. লেখকের মতে, তথাকথিত ছোটলোক সম্প্রদায়ের প্রকৃত পরিচয় কী ?
গ. উদ্দীপকে ‘উপেক্ষিত শক্তির উদ্বোধন’ প্রবন্ধের যে দিকটি প্রতিফলিত হয়েছে, তা ব্যাখ্যা করো।
ঘ. উদ্দীপকের ‘মর্মবাণী আর প্রবন্ধের মর্মবাণীতে কোনো বিরোধ নেই’- উক্তিটি মূল্যায়ন করো।

০৭ নম্বর সৃজনশীল প্রশ্নের উত্তর

ক. ‘উপেক্ষিত শক্তির উদ্বোধন’ প্রবন্ধে উপেক্ষিত জনতাকে কী বিশেষণে বিশেষিত করা হয়েছে?

উত্তরঃ ‘উপেক্ষিত শক্তির উদ্বোধন’ প্রবন্ধে উপেক্ষিত জনতাকে ‘ছোটলোক’ বিশেষণে বিশেষিত করা হয়েছে ।

খ. লেখকের মতে, তথাকথিত ছোটলোক সম্প্রদায়ের প্রকৃত পরিচয় কী?

উত্তরঃ

১. লেখকের মতে, তথাকথিত ছোটলোক সম্প্রদায়রা হলো সহজ-সরল ও উদার দৃষ্টিভঙ্গির অধিকারী।
২. আমাদের আভিজাত্য গর্বিত সম্প্রদায় সমাজের বৃহত্তর জনগোষ্ঠীকে ‘ছোটলোক’ বলে অবজ্ঞা করেছে। আসলে এরা সরল সহজ। এদের কোনো অহংকার নেই। এরা মুক্ত ও উদার মনের মানুষ। উদার মন নিয়ে এদের ডাক দিলে এরা অসাধ্য সাধনে পারঙ্গম হয়ে উঠে। কারণ এরা কর্মী। এদের ওপরই নির্ভর করে সমাজ ও রাষ্ট্রীয় জীবনের সুখ ও সমৃদ্ধি।

গ. উদ্দীপকে ‘উপেক্ষিত শক্তির উদ্বোধন’ প্রবন্ধের যে দিকটি প্রতিফলিত হয়েছে, তা ব্যাখ্যা করো।

উত্তরঃ

১. প্রবন্ধের তথাকথিত ‘ছোটলোকদের’ সমাজ ও রাষ্ট্রীয় জীবনে গুরুত্বের দিকটি প্রতিফলিত হয়েছে।

২. সভ্যতার সভ্যতার বিনির্মাণে সমাজের সকল শ্রেণি-পেশার মানুষের সমান অবদান রয়েছে। যুগে যুগে শ্রমিক-মেহনতি মানুষের অক্লান্ত শ্রমের বিনিময়েই আজকের সভ্যতা উন্নত ও বিকশিত হয়েছে। এ জন্য তথাকথিত ছোটলোক সম্প্রদায়কে খাটো করে দেখার কোন উপায় নেই।

৩. পৃথিবীতে সভ্যতা কোনো ব্যক্তি বিশেষের হাত ধরে বা পা ধরে আসে নি। কোনো জাতি বিশেষ ও এ জন্য অহংকার করতে পারে না। কারণ সভ্যতার ইমারত নির্মিত হয়েছে ছোট-বড়, উঁচু-নিচু, ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সকল শ্রেণি বা পেশার মানুষের সমন্বয়ে। বলতে গেলে আমার যাদের উপেক্ষা করছি তাদের শারীরিক শ্রমে নির্মিত হয়েছে সভ্যতার বিশাল দেহ। বুদ্ধিজীবীগণ কৌশল উদ্ভাবন করেছেন আর তাকে রূপ দান করেছেন আমরা যাদের ছোটলোক বলছি তারা তাদের সর্বাত্মক সহযোগিতা ব্যতীত সভ্যতা হতো আকাশ কুসুম কল্পনা মাত্র। তার বাস্তব রূপ কখনোই সম্ভব হতো না।

উদ্দীপকে তাই সমাজের ছোটলোক বলে অভিহিত সকল শ্রেণির মানুষকে শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়েছে। কাজী নজরুল ইসলাম ও এ সত্যকে কেবল উপলব্ধি করেন নি, মর্ম দিয়ে তা স্বীকার করেছেন। তাই তিনি সমাজের আভিজাত্যাভিমানীদের দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তনের আহ্বান জানিয়েছেন। তাদের সাথে একাকার হয়ে দেশ ও জাতিকে এগিয়ে নিয়ে যাবার আহ্বান জানিয়েছেন।

ঘ. উদ্দীপকের ‘মর্মবাণী আর প্রবন্ধের মর্মবাণীতে কোনো বিরোধ নেই’- উক্তিটি মূল্যায়ন করো ৷

উত্তরঃ
১. প্রশ্নোক্ত উক্তিটি যথাযথ।

২. আজকের আধুনিক সভ্যতা নির্মাণে সমাজের সকল মানুষেরই অবদান রয়েছে। এখানে কাউকে ছোট করে দেখা আদৌ উচিৎ নয়। এই সত্যটিই ফুঠে উঠেছে উদ্দীপক ও আলোচ্য প্রবন্ধের মর্মবাণীতে।

৩. আমরা সভ্যতার গর্বে আজ গর্বিত। কিন্তু যাদের কঠোর পরিশ্রমের বিনিময়ে আমরা এ সভ্যতা পাভ করেছি তারা আল নানাভাবে উপেক্ষিত। কেবল উপেক্ষিত নয়; লাঞ্ছিত এবং ছোটলোক বলে অপমানিত। কিন্তু পৃথিবীর ইতিহাস नम, সভ্যতা কোনো বিশেষ ব্যক্তি বা গোষ্ঠী বা সম্প্রদায়ের কৃতিত্ব নয়। যারা সমাজে নীচু জাতের লোক বলে পরিচিত তাদের অবদানকে কোনো ভাবে ছোট করে দেখার অবকাশ নেই।

তাদের উপযুক্ত সম্মান দেখানো আমাদের নৈতিক দায়িত্ব। একটি রাজশক্তি যত শক্তিমান হোক দেশের আপামর জনগণকে উপেক্ষা করে বা অস্বীকার করে দেশের কোনো প্রকার উন্নয়ন সাধন করতে পারবে না। এমন কি বহিঃশত্রুর আক্রমণ থেকে আত্মরক্ষাও নয়। তারপর ও নির্যাতনে নিপীড়নে আমরা তাদের প্রতিনিয়তই অপমান করে চলেছি। আমাদের জাতীয় জীবনে অধঃপতনের মূল কারণ এটাই।

৪. সমাজের প্রতিটি ব্যক্তিকে নিয়েই দেশ বা জাতির। সে জাতির সমৃদ্ধি অর্জনে সবাইকে সমান তালে মিলে মিশে এগিয়ে যেতে হবে। একদিন সমাজের নীচশ্রেণির মানুষ কর্মবিরতি পালন করলে বুঝা যাবে আমাদের সভ্যতার কী দুর্গতি হয়। কাজেই কাউকে পিছনে ফেলে নয়, উপেক্ষা করে নয়, সবাইকে কাছে টেনে নিয়ে এবং উপযুক্ত সম্মান দিয়েই আমাদের সামনে এগিয়ে যেতে হবে। আর এটাই হলো উদ্দীপক ও আলোচ্য প্রবন্ধের মর্মবাণী ।

প্রশ্ন ০৮

নিজের হাতের দিকে তাকিয়ে দেখ— ছোট বড় পাঁচটি আঙ্গুল নিয়ে তোমার হাতটি স্রষ্টা সৃষ্টি করেছেন। পাঁচটি আঙ্গুলের জন্য পাঁচটি হাত দেন নি। তুমি এর কোনটির গুরুত্বকে অস্বীকার করবে। তুমি বেশিরভাগ সময় কিন্তু সবকটি আঙ্গুলই একসাথে ব্যবহার কর। তুমি তোমার এ আঙ্গুলের অসমতা অস্বীকার করতে পার না। আমাদের সমাজও আমাদের হাতের মতো। বুদ্ধিমানদের জন্য নিজের হাতেই, ছোট বড়র ব্যাখ্যা রয়েছে।

ক. ‘উপেক্ষিত শক্তির উদ্বোধন’ প্রবন্ধটি কোন গ্রন্থ থেকে উৎকলন করা হয়েছে?
খ. আমাদের দেশে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে কোনটি প্রধান অন্তরায়? বর্ণনা করো। [বাকাশিবো – ২০১৩] গ. উদ্দীপকের হাতের আঙ্গুল প্রসঙ্গটি প্রবন্ধের কোন অনুষঙ্গের সাথে তুল্য? ব্যাখ্যা করো।
ঘ. ‘উদ্দীপকে তাঁরই ইঙ্গিত বহন করে, যা প্রবন্ধকার বলতে চেয়েছেন।’- উক্তিটির যথার্থতা নিরূপণ করো। [

০৮ নম্বর সৃজনশীল প্রশ্নের উত্তর

ক. ‘উপেক্ষিত শক্তির উদ্বোধন’ প্রবন্ধেটি কোন গ্রন্থ থেকে উৎকলন করা হয়েছে?

উত্তরঃ ‘উপেক্ষিত শক্তির উদ্বোধন’ প্রবন্ধটি ‘নজরুল রচনাসম্ভার তৃতীয় খণ্ড’ থেকে সংকলন করা হয়েছে।

খ. আমাদের দেশে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে কোনটি প্রধান অন্তরায়? বর্ণনা করো।

উত্তরঃ দিনের পর দিন সমাজের উঁচু তলার মানুষের অত্যাচার আর অপমানে তথাকথিত ছোটলোকেরা তাদের অধিকারের কথাটি বেমালুম ভুলে গেছে। তারাও যে মানুষ এবং একই স্রষ্টার সৃষ্টি, অন্যদের মতো তাদের ও সমান সুযোগ-সুবিধার অধিকার রয়েছে তা আজ আর তাদের মনে নেই।

কেউ অধিকারের কথা তুললে সমাজের উঁচু তলার মানুষের আঘাতে তার প্রাণান্ত অবস্থা হয়। গণতন্ত্র হচ্ছে জনগণের জন্য জনগণের দ্বারা। সমাজ তাদের চরমভাবে অবহেলা অপদস্থ করে বলেই আমাদের দেশে গণতন্ত্র প্রাতিষ্ঠানিক রূপ লাভ করতে পারে না।

গ. উদ্দীপকের হাতের আঙ্গুল প্রসঙ্গটি প্রবন্ধের কোন অনুষঙ্গের সাথে তুল্য? ব্যাখ্যা করো।

উত্তরঃ উদ্দীপকের হাতের আঙ্গুলের সাথে আমাদের সমাজ জীবন এর গভীর মিল রয়েছে।

১. ছোট-বড়, উঁচু-নীচু সবাইকে নিয়েই আমাদের সমাজ গঠিত। সমাজের কাউকে অবহেলা করে সমাজ উন্নয়নের কথা ভাবা অবান্তর। সুন্দর-সুখী-সমৃদ্ধময় সমাজ গঠনের জন্য আমাদের সমাজের সবাইকে নিয়ে কাজ করতে হবে। কাউকে খাটো করে দেখা যাবে না।

২. স্বাভাবিকভাবে আমাদের সবার হাতে রয়েছে পাঁচটি করে আঙ্গুল। এ আঙ্গুলগুলো অসম অর্থাৎ ছোট-বড়। কিন্তু কোনোটিই গুরুত্বপূর্ণ নয়। কোনোটিকেই অবহেলা করা চলে না। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে ব্যবহারেই ছোট বড় সবকটি অপরিহার্য বলে বিবেচিত হয়ে থাকে। এর যেকোনো একটি কম হলে আমাদের কিছু না কিছু অসুবিধা ভোগ করতে হয়। আমাদের সমাজদেহ তেমনি। এখানে রয়েছে বিভিন্ন পেশার, বয়সের, ধর্মের, যোগ্যতার মানুষ। কিন্তু কাউকেই অপ্রয়োজনীয় বিবেচনার অবকাশ নেই।

উঁচু-নীচু, ছোট-বড় সবাইকে নিয়েই দেশ। দেশের সমৃদ্ধির জন্য এদের কারো অবদানকেই খাটো করে দেখার সুযোগ নেই। মুচি, সুইপার এদের আমরা কতই না তুচ্ছ-তাচ্ছিল্য করে থাকি। কিন্তু একদিন এদের সেবা না পেলে আমাদের ভদ্রতা, সভ্যতা সব শিকেয় ওঠে। এদিক থেকে আমাদের হাত আর সমাজ যেন পরস্পরের উপমা।

ঘ. উদ্দীপকে তাঁরই ইঙ্গিত বহন করে, যা প্রবন্ধকার বলতে চেয়েছেন।’—উক্তিটির যথার্থতা নিরূপণ করো।

উত্তরঃ

১. প্রশ্নোক্ত উক্তিটি যথার্থ ।

২. সমাজের উন্নয়নের জন্য জাতি-ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সবাইকে সঙ্গে নিয়ে কাজ করতে হবে। সমাজের বৃহত্তর একটি অংশকে যদি বা দিয়ে সবাই উন্নয়নের কথা ভাবা হয় তাহলে তা হবে বাতুলতা।

৩. প্রবন্ধকার কাজী নজরুল ইসলাম আমাদের সমাজ নিয়ে ব্যথিত বোধ করেছেন। তিনি দেখেছেন সমাজের যারা প্রকৃত সেবক তারা কেবল উপেক্ষিত নয় রীতিমতো অপমানিত, নিপীড়িত। তাদের ত্যাগের কোনো স্বীকৃতি নেই। যেমন- কৃষক জমিতে ফসল উৎপাদন না করলে তথাকথিত ভদ্রলোকদের কী উপায় হতো তা তারা কখনো ভাবে না। ভদ্রলোকদের কাছে ‘চাষা’ বলে গালি খায়। কখনো মার খায়। পৃ

থিবীতে কোনো সমাজ কী আছে যেখানে ধনী গরিব নেই। কিন্তু তাদের ‘ছোটলোক বলে গালি শুনতে হবে কেন। তাদের সহযোগিতা ব্যতীত সমাজ সভ্যতা এক ইঞ্চিও অগ্রসর হতে পারে না। লেখক এদের গুরুত্ব মর্ম দিয়ে উপলব্ধি করেছেন। পাশাপাশি তাদের উপেক্ষার মর্মান্তিক বেদনায় ব্যথিত বোধ করেছেন। সমাজ জীবনে এদের ছোট করে দেখা রীতিমতো অন্যায়।

৪. আমাদের সবার হাতেই তো ছোট বড় পাঁচটি করে আঙ্গুল আছে। আমরা সে আঙ্গুলের কোনটিকে অপ্রয়োজনীয় বিবেচনায় উপেক্ষা করি না। ব্যবহার থেকে বিরত থাকি না। হাতের আঙ্গুলের অসমতা যদি মেনে নেই তাহলে সমাজের অসমতা মেনে নিতে অসুবিধা কি? সমস্যা আমরা অন্ধকারে অনেক কিছু দেখতে পাই কিন্তু আলোকিত সত্যকে দেখতে পাই না।

তবে সারকথা হলো— হাতের আঙ্গুলের ছোট বড় হওয়া সত্ত্বেও যেমন গুরুত্ব অনুপেক্ষণীয় তেমনি সমাজের উঁচু-নীচুও স্বীকার্য। ছোট বড় আঙ্গুল নিয়ে যেমন আমাদের বাঁচতে হয় তেমনি সমাজের ছোট বড় সবাইকে নিয়েই আমাদের প্রগতির পথে, সমৃদ্ধির পথে এগিয়ে যেতে হবে।

প্রশ্ন ০৯

“নব কহে, ‘ধূলিকণা, তোর জন্ম মিছে,
চিরকাল পড়ে রলি চরণের নিচে।”
ধূলিকণা বলে, ‘ভাই, কেন কর ঘৃণা,
তোমার দেহের আমি পরিণাম কিনা?”

ক. দেশের বৃহত্তম জনগোষ্ঠীকে ‘ছোটলোক’ বিশেষণে বিশেষিত করেছে কারা?
খ. তথাকথিত ছোটলোকেরা তাদের অধিকারের কথা ভুলে যায় কেন?
গ. উদ্দীপকের ‘ধূলিকণা’ অনুষঙ্গে প্রবন্ধের কোন দিকটি প্রতিফলিত হয়েছে? ব্যাখ্যা করো।
ঘ. ‘উদ্দীপকের ইঙ্গিতময় বিষয়টি প্রবন্ধেরও শিক্ষণীয় বিষয়।’ বিশ্লেষণ করো।

০৯ নম্বর সৃজনশীল প্রশ্নের উত্তর

ক. দেশের বৃহত্তম জনগোষ্ঠীকে ‘ছোটলোক’ বিশেষণে বিশেষিত করেছে কারা?

উত্তরঃ সমাজের আভিজাত্য-গর্বিত সম্প্রদায় দেশের বৃহত্তম জনগোষ্ঠীকে ছোটলোক বিশেষণে বিশেষিত করেছে।

খ. তথাকথিত ছোটলোকেরা তাদের অধিকারের কথা ভুলে যায় কেন?

উত্তরঃ

১. সমাজ সৃষ্ট হীনমন্যতার কারণে তথাকথিত ছোটলোকেরা তাদের অধিকারের কথা ভুলে যায়।
২. তথাকথিত ছোটলোকেরা সমাজের ভদ্র সম্প্রদায়ের দ্বারা প্রতিনিয়ত অত্যাচারিত হয়ে থাকে। জন্ম থেকেই তাদের ভাগ্যে জোটে ঘৃণা আর উপেক্ষা। ফলে সংকোচ আর জড়তা তাদের চিন্তা-চেতনায় এমনভাবে বাসা বাঁধে যে, তারা যে মানুষ সে কথাটিই তারা ভুলে যায়।

গ. উদ্দীপকের ‘ধূলিকণা’ অনুষঙ্গে প্রবন্ধের কোন দিকটি প্রতিফলিত হয়েছে? ব্যাখ্যা করো।

উত্তরঃ

১. উদ্দীপকের ধুলিকণা অনুষঙ্গে প্রবন্ধের তথাকথিত ছোটলোকের অত্যাচারিত হবার দিকটি প্রতিফলিত হয়েছে।

২. আমাদের সমাজ দুটো ধারায় বিভক্ত- ‘আভিজাত্য গর্বিত সম্প্রদায় আর তথাকথিত ছোটলোক সম্প্রদায়। আভিজাত্য গর্বিত সম্প্রদায় সমাজের তথাকথিত ছোটলোকদের এতটাই উপেক্ষার চোখে দেখে যে, তাদের দৃষ্টিতে এরা যেন ধূলিকণার সমতুল্য।

৩. উদ্দীপকের ধূলিকণা চিরকাল পায়ের নিচে থাকে। তাদের কোনো মূল্য নেই, তাদের কোনো মর্যাদা নেই। তারা একেবারেই নগণ্য। আলোচ্য প্রবন্ধে বলা হয়েছে, আমাদের সমাজের উঁচুতলার মানুষের কাছেও তথাকথিত ছোটলোকেরা তেমনি উপেক্ষার, তাচ্ছিল্যের আর ঘৃণার শিকার। তারা যেন ধূলিকণার মতো পদদলিত হবার জন্য পৃথিবীতে এসেছে। ধূলিকণাবে মানুষ যেমন মাড়িয়ে চলে এদেরও ভদ্র সম্প্রদায় মাড়িয়ে চলেন।

পান থেকে চুন খসলে তাদের ওপর এমন অত্যাচার চালানো হয় যে তাতে এরা জ্ঞান হারিয়ে ফেলে। সমাজে এদের অবস্থানটা ধূলিকণার মতোই অবহেলার, অপমানের। প্রবন্ধে বর্ণিত তথাকথিত ছোটলোকেরা উদ্দীপকে উল্লিখিত ধূলিকণারই বাস্তব প্রতিনিধি ।

ঘ. ‘উদ্দীপকের ইঙ্গিতময় বিষয়টি প্রবন্ধেরও শিক্ষণীয় বিষয়।’ বিশ্লেষণ করো।

উত্তরঃ উদ্দীপকের ইঙ্গিতময় বিষয়টি সবাই মিলেমিশে গড়ে তুলব সুখী-সমৃদ্ধময় সমাজ এই বিষয়টি প্রবন্ধের শিক্ষণীয় বিষয়।
১. আমাদের সমাজের ভদ্র সম্প্রদায়ের অহংবোধই আমাদের অধঃপতনের মূল কারণ। আমরা কখনো ক্ষমতার মদমত্তে, কখনো আভিজাত্যের অহমিকায় আল্লাহর শ্রেষ্ঠ সৃষ্টি মানুষকে এতটাই অবজ্ঞার চোখে দেখি আর পীড়ন করি যা কোনোভাবেই বিবেকপ্রসূত কাজ বলে বিবেচিত হয় না। আমরা ভুলে যাই যে, পৃথিবীর সকল মানুষ এক আল্লাহরই সৃষ্টি।

২. ছোট-বড় সে আল্লাহরই বিধান। আমি যদি ধনীর ঘরে জন্মে থাকি সেটা স্রষ্টার কৃপা, আমার কোনো গৌরবের বিষয় নয়। কারণ আমার কোনো আবেদন নিবেদন বা কৃতিত্বের জন্য আল্লাহ আমাকে সেটা উপহার দেন নি।

বিশেষত মৃত্যু আমাদের সবাইকে এক কাতারে এনে হাজির করে- এটা আমরা যতটা জানি ততটা অন্য কোনো প্রাণী জানে না। তদুপরি আমরা মানুষে মানুষে বিভাজন সৃষ্টি করে শোষণ নির্যাতনের প্রক্রিয়া চালু রাখি। কাজেই আমরা প্রকৃত বুদ্ধিমান হলে অবশ্যই সমাজের সবার সাথে সদ্ব্যবহার করব।

৩. সবাইকে আপন করে সামনের দিকে এগিয়ে চলব। আমাদের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় পৃথিবী হয়ে উঠবে সুখের সদন। সমাজের বৃহত্তর জনগোষ্ঠীকে পায়ে মাড়িয়ে বা পাশ কাটিয়ে সুখ ও সমৃদ্ধি কোনোভাবেই সম্ভব নয়। কাজেই জাতীয় সুখ ও সমৃদ্ধির জন্য সবাইকে আপন করে কাছে টেনে নিতে হবে, সাথে নিয়ে দৃপ্ত পায়ে এগিয়ে যেতে হবে। এটাই এ প্রবন্ধের সারকথা ।

প্রশ্ন ১০.

এই সব মূঢ় ম্লান মুখে দিতে
হবে ভাষা, এই সব শ্রান্ত শুষ্ক ভগ্ন বুকে
ধ্বনিয়া তুলিতে হবে আশা। ডাকিয়া বলিতে হবে-
মুহূর্তে তুলিয়া শির একত্রে দাঁড়াও দেখি সবে।

ক. কাজী নজরুল ইসলাম কোন বাঁশিতে সুর দিতে আহবান জানিয়েছেন?
খ. আমাদের অধঃপতনের কারণ কী?
গ. উদ্দীপকে ‘উপেক্ষিত শক্তির উদ্বোধন’ প্রবন্ধের যে দিকটি প্রতিফলিত হয়েছে, তা ব্যাখ্যা করো ৷
ঘ. উদ্দীপকে প্রতিফলিত বক্তব্য প্রবন্ধের সামগ্রিক ভাবসম্পদেরই প্রতিনিধিত্ব করে”–আলোচনা করো ।

১০ নম্বর সৃজনশীল প্রশ্নের উত্তর

ক. কাজী নজরুল ইসলাম কোন বাঁশিতে সুর দিতে আহবান জানিয়েছেন?

উত্তরঃ

কাজী নজরুল ইসলাম বোধন-বাঁশিতে সুর দিতে আহ্বান জানিয়েছেন ।

খ. আমাদের অধঃপতনের কারণ কী?

উত্তরঃ

১. সমাজের উপেক্ষিত শক্তিকে পেছনে রাখায় আমাদের অধঃপতনের কারণ ।
২. আমাদের সমাজের দশআনা শক্তি উপেক্ষিত। আভিজাত্য গর্বিত সম্প্রদায় এদের জীবনকে নানাভাবে অত্যাচারে নিপীড়নে অতিষ্ঠ করে রাখে। ঘৃণা, উপেক্ষা আর অপমান ছাড়া তাদের ভাগ্যে আর কিছুই জোটে না। ফলে তারা তাদের মানবিক অস্তিত্বই ভুলে যান। আসলে এই উপেক্ষিতরাই প্রকৃত মানুষ। তাদের অনবরত অবহেলা করে চলাই আমাদের অধঃপতনের কারণ।

গ. উদ্দীপকে ‘উপেক্ষিত শক্তির উদ্বোধন’ প্রবন্ধের যে দিকটি প্রতিফলিত হয়েছে, তা ব্যাখ্যা করো ।

উত্তরঃ

১. উদ্দীপকে “উপেক্ষিত শক্তির উদ্বোধন’ প্রবন্ধের উপেক্ষিত শক্তিকে জেগে উঠার দিকটি প্রতিফলিত হয়েছে।

২. আমাদের সমাজ দু’শ্রেণির মানুষ নিয়ে গঠিত। অভিজাত শ্রেণি আর তথাকথিত ছোটলোক শ্রেণি। এই ছোটলোক শ্রেণির লোকেরা সংখ্যায় বেশি। কিন্তু তারা সর্বদা অভিজাত শ্রেণির লোকদের দ্বারা অবহেলিত অত্যাচারিত হচ্ছে। তারা কিছুতেই এদের মাথা তুলে দাঁড়াতে দিচ্ছে না। তা গরিব মতুল্য।

৩. অভিজাত শ্রেণির লোকেরা স্বীকার করুক আর নাই করুক তাদের দ্বারা সমাজের বিশেষ কোনো পরিবর্তন সম্ভব নয়। কারণ তারা বিলাসী, আরামপ্রিয় কাজেই পরিবর্তনের জন্য চাই শ্রমজীবী মানুষ। এই শ্রমজীবী মানুষ তথা ছোটলোকদের সম্পৃক্তকরণ ব্যতীত কোনো প্রকার অগ্রগতির আশা করা যায় না।

কাজেই ছোটলোক বলে উপেক্ষিত জনশক্তিকে যথোচিত মর্যাদা দিয়ে তাদের কাছে টানতে হবে। কেবল কাছে টানা নয়, অভিযাত্রায় শরিক করতে হবে, যা আলোচ্য প্রবন্ধেরও মূলকথা। নজরুল ইসলামও উপেক্ষিত তথা ছোটশ্রেণির মানুষদের জেগে ওঠার আহ্বান জানিয়েছেন।

ঘ. উদ্দীপকে প্রতিফলিত বক্তব্য প্রবন্ধের সামগ্রিক ভাবসম্পদেরই প্রতিনিধিত্ব করে। আলোচনা করো ৷

উত্তরঃ

১. প্রশ্নোক্ত উক্তিটি যৌক্তিক।

২. সমাজের ছোটলোক বলে যারা অভিজাত সম্প্রদায় কর্তৃক পরিচিত তাদেরকে জেগে উঠতে হবে। চিরকালই ধনীদের দ্বারা তারা পদদলিত হবে এমন প্রত্যাশা কবি কখনোই কামনা করেন নি। তাই কবি ব্যতীতচিত্তে এসব লোকদের জেগে ওঠার আহ্বান জানিয়েছেন। যা উদ্দীপক ও আলোচ্য প্রবন্ধে প্রতিফলিত হয়েছে।

৩. উদ্দীপকের শেষ কথা- একত্রে তথা সম্মিলিতভাবে দাঁড়াতে হবে। প্রবন্ধের শেষ বাণী- উপেক্ষিত ভাইদের হাত ধরে দলে ভেড়াতে হবে। তাদের মনের জড়তা আড়ষ্টতা মুছে দিতে হবে। তাদের মনে জমে থাকা দীর্ঘদিনের অপমানের অবহেলার ক্লেদ মুছে দিতে হবে। যেন তারা সহজ স্বাভাবিকভাবে কাজে সামিল হতে পারে।

তাদের মন খুলে কথা বলার সুযোগ দিতে হবে যেন স্বতঃস্ফূর্ত হাসি তাদের পথের জড়তা জয়ের প্রেরণা হয়ে ধরা দেয়। এর সুফলের দৃষ্টান্ত মহাত্মা গান্ধী রেখে গেছেন। তিনি প্রাণ খুলে ছোটলোকদের সাথে মিশেছেন, তাদের সুখ দুখের ভাগী হয়েছেন, তাদের উপবাসের সহমর্মী হয়ে নিজেও স্বেচ্ছায় উপোস করেছেন। জাতিভেদ, ধর্মভেদ, সমাজভেদ পায়ে মাড়িয়ে তিনি এই হরিজন, চন্ডালদের বুকে টেনে নিয়েছেন। তার উপযুক্ত প্রতিদান দিতে ছোটলোকেরা মোটেও কার্পণ্য করে নি ।

৪. উদ্দীপক ও আলোচ্য প্রবন্ধের তুলনামূলক বিশ্লেষণে বলা যায়, আর বিভাজন নয়। অভিজাতদের দুর্ব্যবহারে যারা হতবাক, খুক তাদের ভাই বলে, বন্ধু বলে কাছে টেনে নিতে হবে। তাদের মধ্যে জাগরণের উচ্ছ্বাস বইয়ে দিতে হবে। উদ্দীপকের সারকথা প্রবন্ধের সারকথার সাথে নির্দ্বিধায় হাতে হাত রেখে ইতি টেনেছে। সুতরাং উদ্দীপক প্রবন্ধের মূল কথার প্রতিনিধিত্ব করে, বলতে দ্বিধা নেই ।

আরো পড়ুনঃ

 

চাকরির খবর ও নোটিশ পেতে আমাদের ফেইজবুক পেজটি ফলো করুন ও ইউটিউব চ্যানেলটি সাবক্রাইব করুন । অন্যান্য সব তথ্য পেতে আমাদের ওয়েব সাইটের সাথে থাকুন ।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button